Breaking News

সাকিবের মোট সম্পদের পরিমাণ কত?

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের আজকের এই অবস্থানে উঠে আসার পিছনে যে কয়জন ক্রিকেটারের বিরাট অবদান ছিলো, সাকিব আল হাসান তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। বাংলাদেশের এই পোস্টার বয় নিজের অভিষেকের পর থেকেই ক্রিকেটাঙ্গনের একের পর এক মঞ্চ রাঙিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট, আইপিএল, পিএসএল, এসপিএল, বিবিএল, সিপিএলের মতো বিশ্বখ্যাত সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয়। এভাবে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের হাতছানি আসছে তার সামনে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থের একটা বড় অংশ তিনি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিনিয়োগ করে আসছেন দেশবিদেশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠায়। এরমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে তার অনেক উদ্যোগ।

বিসনেসম্যান সাকিবের অভিষেকটা মূলত হয়েছিল রেঁস্তোরা ব্যবসার মাধ্যমে। সাকিবের ব্যবসায়ীক সহযোগী এবং ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, মোটামুটি ২০১০ সাল নাগাদ এই জগতে তার পথ চলার শুরু। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে ‘সাকিবস ডাইনস’ নামের এক রেস্ট্রুরেন্ট ছিলো তার প্রথম ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। অবশ্য তেমন লাভের মুখ না দেখায় ২০১৫ সালে উদ্বোধনের মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই সেটিকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার মালিকানাধীন ‘সাকিবস সেভেন্টিফাইভ’ নামের দুইটি রেস্তোঁরা বর্তমানে ঢাকার মিরপুর ও ধানমন্ডিতে সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।

এদিকে ঢাকার রেস্তোঁরা ব্যবসা আলোর মুখ না দেখায় ২০১৬ সালে নিজ বাড়ি মাগুরার পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালীতে ‘সাকিব এগ্রো ফার্ম লিমিটেড’ নামে ১৪ একর জমির ওপর কাঁকড়া ও কুঁচের খামার গড়ে তোলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু দুই বছর ধরে সেটিও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল গতকাল সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জমি ইজারা নিয়ে খামারটি গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের প্রতিশ্রুত জমির ভাড়া পরিশোধকরা হয়নি। পাশাপাশি খামারটিতে কর্মরত শ্রমিকদের বেতনভাতা সময়মতো প্রদান না করায় গত বছর শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সাকিব এগ্রো ফার্ম লিমিটেড বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে খামারটির সাইনবোর্ডও উঠিয়ে ফেলা হয়েছে।

আবার ২০১৫ সালেই ‘ফিয়েস্তা’ নামের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ১৩ জন পরিচালকের মাঝে সাকিব চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। অবশ্য ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আড়ালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জাপানে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সিক্যুরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্বপালন করে আসছেন তিনি। সম্প্রতি সংস্থাটি থেকে ‘মোনার্ক হোল্ডিং’ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদন পেয়েছেন সাকিব। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের পদেও বর্তমানে রয়েছে তারই নাম। এছাড়াও স্ত্রীর উৎসাহে যমুনা ফিউচার পার্কে ‘কসমিক জোভিয়ান’ নামের একটি প্রসাধনী বিতাণ খুলেছিলেন সাকিব। কিন্তু কাঁকড়ার ফার্মটির মতো সেটির ফটকেও বেশ কিছুদিন ধরে তালা ঝুলছে।

এদিকে গত কয়েকবছরে সাকিবের উমরাহের ছবি নেটিজেনদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে সাকিবের বন্ধুবান্ধবদের মতে, উমরাহের কথা বলে পবিত্র নগরীতে গেলেও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল, নিজের ব্যবসা সম্প্রসারণ। ২০১৮ পরবর্তী এসব সৌদি আরবে কয়েকটি আবাসিক হোটেল কিনে তা উমরাহ ও হজ্জ পালন করতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভাড়ায় দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। এ লক্ষ্যে গেল বছর ২০২০ সালে ‘সাহ-৭৫ টুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি ট্রাভেলস এজেন্সি উদ্বোধন করেছিলেন সাকিব। যদিও করোনার প্রকোপে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। আবার সেই ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজারের ‘হোয়াইট স্যান্ড রিসোর্ট’ হোটেল কাম শপিং মলে ২০ হাজার বর্গফুটের বাণিজ্যিক স্পেস কেনারও চুক্তি করেন সাকিব।

এসবের বাইরে কয়েক বছর আগে বাণিজ্য নগরী চট্টগ্রামের শিকলবাহায় ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ডুয়াল ফুয়েলভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে আবেদন করেছিলো সাকিব আল হাসানের কনসোর্টিয়াম। এনইএল-আরএমএল-এসএনইপিএসসিএল এনার্জি কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তাব দেয় বিপিডিবির কাছে। চুক্তি স্বাক্ষরের দেড় বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসার কথা জানিয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি।

বিপিডিবির কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো চিঠিতে সাকিব আল হাসান নিজেই সই করেন। চিঠিতে কনসোর্টিয়ামটির প্রধান কার্যালয় দেখানো হয় রাজধানীর প্রগতি সরণির রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ার। যদিও আবেদনপত্রটি অসম্পূর্ণ হওয়ায় বিপিডিবি সেটি ফেরত দেয়। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যৌথভাবে করার জন্য দেশের একাধিক বড় শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। তবে এটি এখনো বিপিডিবিতে আবেদিত অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিকরা খোঁজ নিয়ে আরো জানতে পেরেছেন, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো খেলে আয় করা অর্থ সাকিব কখনোই দেশে আনেননি। এসব অর্থ তিনি সংরক্ষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। উন্নত বিশ্বের দেশটির বিভিন্ন খাতে তার বিনিয়োগ রয়েছে। এরই মাঝে মার্কিন মুলুকের উইনকনসিন রাজ্যে বাড়ি কিনেছেন বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান।

সাকিবের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?

বিখ্যাত ক্রিকেটভিত্তিক নিউজপোর্টাল ‘ক্রিকট্রেকার’ বলছে ২০১৬ সালে সাকিবের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি মার্কিন ডলার। ক্লাউডনেটওর্থের তথ্যানুসারে ২০১৯ সালে তার সম্পদ বাড়ে আরো ৬০ লাখ ডলার। তবে সর্বশেষ তথ্যটি প্রকাশ করেছে নেটওর্থআইডিয়া। তাদের ধারণা ২০২১ সালে সাকিবের মোট সম্পত্তি ৪ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে পাওয়া বেতন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং বিভিন্ন পণ্যের দূত হিসেবে অর্জন করা আয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসা থেকে আয়ের ভিত্তিতে সাকিব আল হাসানের মোট সম্পদের পরিমাণ হিসাব করেছে ওয়েবসাইটগুলো।

About admin

Check Also

অন্ধ চোখে রঙিন ক্রিকেটকে দেখেছেন যিনি

চারপাশের এই রঙিন পৃথিবীর সকল রঙ উপভোগ করা থেকে এক মুহূর্তেই আপনি চিরতরে বঞ্চিত হয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *