Breaking News

সাকিব সম্পর্কে যে সাতটি তথ্য আপনি নাও জানতে পারেন!

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার দিক থেকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ধারেকাছেও কেউ নেই। দেশ বিদেশের তাবত ঘরোয়া লিগ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ – সবখানেই নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশের এই পোস্টার বয়। শুধু তাই নয়, রেকর্ড গড়ার দিক থেকেও সময়ের বহু নামকরা ক্রিকেটারদের পিছনে ফেলেছেন তিনি। যেকারণে মাগুরার এই ছেলেকে নিয়ে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। পাঠক হৃদয়ের সেই তৃষ্ণা মেটাতেই আজ তাই হাজির করছি সাকিবকে নিয়ে দারুণ সাতটি তথ্য।

সাকিবের ফুটবল প্রেম
সাকিবের বাবা খন্দকার মাশরুর রেজা ছিলেন বিভাগীয় পর্যায়ের ফুটবলার। চাচাতো ভাই মেহেদি হাসান উজ্জ্বল খেলেছেন জাতীয় ফুটবল দলে। বলতে গেলে ফুটবল পাগল এক পরিবারেই তার বেড়ে ওঠা। সাকিবের লেখা ‘হালুম’ নামের বইটি পড়লে জানা যায়, ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিতেন তিনি। শোনা যায়, একটা সময় ঘুমোতে গেলেও কোলবালিশের মতো ফুটবলকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন তিনি। পড়াশোনা, খাওয়া দাওয়া সবসময় একটা বল তার আশেপাশে থাকা চাই-ই, চাই। এরপর একটা সময় পাড়ায় বন্ধুবান্ধবদের সাথে খেলতে গিয়ে ক্রিকেটের প্রেমে পড়ে আজকের এই অবস্থায় তার উঠে আসা। কিন্তু বিভিন্ন সময় ফুটবলের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা খোলামেলাভাবে জানিয়েছেন বিশ্বসেরা এই ক্রিকেটার। এই যেমন, ভারতীয় জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমি আসলে একজন ফুটবলার হতে চেয়েছিলাম। এটা আমাদের বংশগত ঐতিহ্য বলা যায়। আমার বাবাও বিভাগীয় দলের হয়ে ফুটবল খেলতেন।’
শুধু তাই নয়, ক্রিকেটের চাইতে ফুটবলকেই নাকি তিনি বেশি ভালোবাসেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি ক্রিকেট থেকে ফুটবল বেশি পছন্দ করি। এটা বোঝানোর ভাষা নেই আমার। আমি হাঁটতে শেখার পর থেকেই ফুটবল আমার পায়ে থাকতো। আমার বাবা নিয়মিত মাঠে নিয়ে যেতেন আমাকে। এরপর থেকেই ফুটবল আমার পছন্দের খেলা।’ ব্যক্তিগতভাবে সাকিব আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির পাঁড়ভক্ত। ক্লাব ফুটবলে বার্সা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আর্জেন্টিনাকেই তাই তিনি সমর্থন করেন। ক্যাম্প ন্যুতে বসে বার্সার খেলা দেখার শখও আছে তার।

ভারতীয় বোলারদের নাস্তানাবুদ করায় পারদর্শিতা
মজার ব্যাপ্র হচ্ছে, ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিবকে সামলাতে সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরাতে হয় ভারতীয় বোলারদের। এপর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে খেলা ১৭ ওয়ানডে ইনিংসে ৩৬.৩৯ গড়ে ৫৯১ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। এরমধ্যে কোনোটিতেই সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও ৮ বার ফিফটি হাঁকিয়েছেন তিনি। সর্বোচ্চ স্কোর ৮৫ রান। অবশ্য গড় হিসাবে ভারতীরাই ওয়ানডেতে সাকিবের হাতে বেশি মার খেলেও, সাকিবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ফর্ম্যাটটিতে কিউইদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২২ ম্যাচ খেলে ৩০.৬৯ গড়ে ৬৩৯ রান তুলে নিয়েছেন তিনি। যেখানে ২ ফিফটির পাশাপাশি ১টি সেঞ্চুরিও ছিলো। সেরা ইনিংসটি ছিলো ১১৪ রানের।

৬টি ভিন্ন দেশের লিগে খেলার সুযোগ
বাংলাদেশের ছেলে হিসেবে এখানকার সব ঘরোয়া টুর্নামেন্টে স্বাভাবিকভাবেই খেলে যাচ্ছেন সাকিব। কিন্তু এর পাশাপাশি আরো ৫টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে তার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কোলকাতা নাইট রাইডার্স এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ্রের হয়ে খেলেছেন তিনি। এরমধ্যে কোলকাতার হয়ে দুইবার শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতাও আছে তার। এছাড়া বিগ ব্যাশ লিগে ২০১৪ মৌসুমে অ্যাডিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে এবং পরের আসরে মেলবোর্ন রেঞ্জার্সের হয়ে খেলেছেন তিনি। অন্যদিকে ইংলিশ কাউন্টিতে ওর্স্টারশায়ার এবং লেস্টারশায়ারের হয়ে প্রশংসনীয় পারফর্ম করেন সাকিব। পাশাপাশি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে বার্বাডোস ট্রিডেন্টস এবং জামাইকা তালাওয়াসের জার্সি শরীরে চাপিয়েছেন। আবার পাকিস্তান সুপার লিগে চড়া দামে করাচি কিংস এবং পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলেছেন তিনি। অবশ্য ইনজুরি এবং বিসিবির অনুমতি না পাওয়ায় সাকিব শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে দুইবার এবং গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি কানাডায় একবার ডাক পেয়েও খেলতে পারেননি।

সাকিব : দ্য বিসনেসম্যান
সাকিব নিজের অভিষেকের পর থেকেই ক্রিকেটাঙ্গনের একের পর এক মঞ্চ রাঙিয়ে গেছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট, আইপিএল, পিএসএল, এসপিএল, বিবিএল, সিপিএলের মতো বিশ্বখ্যাত সব ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয়। এভাবে প্রতিনিয়ত মোটা অঙ্কের হাতছানি আসছে তার সামনে। বিপুল পরিমাণ এই অর্থের একটা বড় অংশ তিনি ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিনিয়োগ করে আসছেন দেশবিদেশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠায়। এরমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি যেমন সফল হয়েছেন, তেমনি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে তার অনেক উদ্যোগ। বর্তমানে তার যেসব ব্যবসা দেশে সচল রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রাজধানীর মিরপুর ও ধানমন্ডিতে অবস্থিত ‘সাকিবস সেভেন্টিফাইভ’ নামের দুইটি রেস্তোঁরা অন্যতম। এছাড়াও ‘ফিয়েস্তা’ নামের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে আছেন তিনি।

মার্কিন মুলুকের জামাতা
সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির ছোট থাকতেই মা-বাবার সঙ্গে পাড়ি জমান আমেরিকায়। দীর্ঘদিন সেখানে থাকার সুবাদে মার্কিন নাগরিকত্বও আছে তার। সাকিব নিজেও বছর তিনেক আগে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। আবার এ দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান আলায়না জন্মসূত্রে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব। যেকারণে বিয়ের পর থেকে আমেরিকা হচ্ছে তার শ্বশুরবাড়ি। এছাড়া সম্প্রতি দেশটির উইনকনসিন রাজ্যে নিজেদের জন্যও বাড়ি কিনেছেন সাকিব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুসারে, আমেরিকায় বিভিন্ন ব্যবসা খাতেও বড় রকমের বিনিয়োগ রয়েছে তার। এমনকি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো থেকে উপার্জিত সকল অর্থ তিনি তার শ্বশুরবাড়ির দেশে নিয়ে সঞ্চয় করেছেন, কখনোই সেসব বাংলাদেশে আনার প্রয়োজনবোধ করেননি।

‘ম্যাজিক্যাল ডেটে’ বিয়ে
সাকিবের স্ত্রী শিশিরের শৈশব আমেরিকায় কাটলেও, ঘটনাক্রমে ছাত্রজীবনে একবার ইংল্যান্ডে যাওয়া পড়েছিল তার। কাকতালীয়ভাবে ‘বাংলাদেশের প্রাণ’ সাকিব আল হাসানও তখন সেখানেই অবস্থান করছিলেন। এভাবে ইংল্যান্ডে নাটকীয়ভাবে তাদের পরিচয়, তারপর সেই পরিচয় থেকে প্রেম-বিয়ে। জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করার জন্য তারা যে তারিখটি বেছে নিয়েছিলেন সেটি ছিলো ১২-১২-১২। অর্থাৎ ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা।

টেস্ট ইতিহাসের বিরলতম রেকর্ড
আজকের দিনে সবখানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জয়জয়কার হলেও, ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ফর্ম্যাট হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটের অবস্থা সবসময়ই উপরে থাকবে। আর সেই ফর্ম্যাটেরই বিরলতম এক রেকর্ডের মালিক হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক টেস্ট ম্যাচেই তিনি সেঞ্চুরি এবং ১০ উইকেট তুলে নেন। তার আগে মাত্র ২ জন ক্রিকেটার এই বিরল কীর্তি অর্জন করেছিলেন।

About admin

Check Also

একমাত্র ছেলে আব্রামের ধর্ম নিয়ে যা বললেন অপু বিশ্বাস

অপু বিশ্বাস শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের সন্তান আব্রাম খান জয়। শাকিবের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *